নরসিংদী পৌরসভার সাবেক  চেয়ারম্যান আঃ মতিন সরকার এর জানাযায় হাজারো মুসুল্লির ঢল

নিজস্ব প্রতিনিধি :  নরসিংদী সদর পৌরসভার দুই বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক  সিনিয়র সহ-সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব আঃ মতিন সরকার এর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার ৪ মার্চ দুপুর ২ টায় একসময়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত, নরসিংদী পৌরসভার সাবেক সফল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মতিন সরকার(৭০) এর নামাজে জানাযা ঐতিহাসিক দত্তপাড়া ( গান্ধীর) ঈদগা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাযায় নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা লে.কর্ণেল ( অবঃ) মোঃ নজরুল ইসলাম হিরু ( বীর প্রতীক), শিবপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জহিরুল  হক ভূইঁয়া মোহন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মতিন ভুইঁয়া, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জি এম তালেব হোসেন, মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সফর আলী ভূঁইয়া, বেলাব উপজেলা চেয়ারম্যান শমসের জামান ভূঁইয়া রিটন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজাল হোসেন, এস এম কাইয়ূমসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি জাতীয় পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, দেশবরণ্য ওলামায়ে কারাম,
পৌরসভার কাউন্সিলবৃন্দ, মাধবদী থানা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, আশপাশের ইউনিয়ন এর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক  ও চেয়ারম্যানবৃন্দ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাযার আগে নজরুল ইসলাম হিরু এমপি বলেন :- মৃত্যুর স্বাদ সব প্রানীকে  গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু আমরা আজ যে ব্যক্তির জানাযা পড়তে উপস্থিত হয়েছি, তিনি ছিলেন একজন মৎ গুণের অধিকারী। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্ত কর্মী ছিলেন। তার দক্ষ রাজনীতির কল্যাণে জেলা আওয়ামী লীগ ছিল সুসংগঠিত। গত ৪ দিন আগে আমি উনাকে হাসপাতালে  দেখতে গিয়েছিলাম, ওনার সাথে আমার কথা হয়ে ছিল। কিন্তু আজ এখানে ওনার জানাযা পড়তে উপস্থিত হবো ভাবতে আমার কষ্ট হচ্ছে।
আঃ মতিন সরকার কেমন ব্যক্তি ছিলেন, তা মরহুমের জানাযায় হাজারো মুসুল্লির উপস্থিতিই বলে দেয়। উনি একজন স্পষ্ট ভাষীর লোক ছিলেন। আজকের এ জানাযায় বিভিন্ন স্থান হতে আগত ওলামায়ে কারাম উপস্থিতি হয়ে প্রমাণ করে উনি ওলামায়ে কারামগনকে ভালোবাসতেন। আমি মহান আল্লাহ নিকট দোয়া করি মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। শিবপুর-৩ আসনের সংসদ মোহন বলেন :- আমরা আজ এমন এক ব্যক্তিকে হারালাম যিনি নরসিংদীর রাজনীতিকে করে রেখে ছিলেন ঐক্যবদ্ধ। তার এ মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ পরিবার শোকাহত। দোয়া করি আল্লাহ যেন উনাকে বেহেস্ত নসীব করেন। শিবপুর-৩ সাবেক  এমপি সিরাজুল মোল্লা বলেন :- আঃ মতিন সরকার একটি ব্যান্ড। দ্বিতীয়বার জন্ম হবে কিনা জানি না। ৮০-৯০ দশকে আঃ মতিন সরকার দলের জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রান। তিনি শুধু  নরসিংদীতে নয় সারাদেশে উনাকে চিনতেন। নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের নাম বললে যে ব্যক্তির নামটি আগে আসতো তিনি হলেন আজকের মরহুম আঃ মতিন সরকার। হাজারো মুসুল্লির উপস্থিতিই প্রমাণ করে আপনারা উনাকে ভালোবাসতেন। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত চেয়ে আপনারা দোয়া করবেন।
এদিকে জেলা প্রেসক্লাব থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলেন :- নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আঃ মতিন সরকার এর মৃত্যুতে জেলা প্রেসক্লাব শোকাহত। তিনি ছিলেন সংবাদ বান্ধব নেতা। যখন বাংলাদেশ ডিজিটালের স্পর্শ লাগে নাই, ঐসময় সংবাদকরমীরা সংবাদ সংগ্রহ করে মতিন সরকার এর ল্যান্ড ফোন থেকে ফোনের মাধ্যমে ঢাকা সংবাদ পাঠাতেন। তার এ অবদানের জন্য গোটা সাংবাদিক সমাজ ঋণী। আজ তার মৃত্যুতে আমরা সাংবাদিকরা হারালাম একজন সাংবাদিকবান্ধব নেতাকে। উল্লেখ গত ৩ মার্চ বুধবার রাত ৮:১৫ মিনিটে নিজ বাসভবনে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এ নেতা শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন :- মরহুমের বড় ছেলে আলহাজ্ব রায়হান সরকান, মরহুমের ছোট ভাই শহর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও জননেতা আলহাজ্ব আশরাফ হোসেন সরকার। সাবেক এ পৌর চেয়ারম্যান তার জীবনদশায় নরসিংদী বড় বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দওপাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা, বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বহু স্কুল কলেজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়ন করেন।
তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব সালেহ উদ্দিন সরকার  ছিলেন নরসিংদীর একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, বড় ভাই মরহুম হাবিবুর রহমান হান্নান সরকার ছিলেন নরসিংদীর প্রথম নির্বাচিত উপজেলার চেয়ারম্যান, ছোট ভাই আলহাজ্ব  শরিফ হোসেন সরকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আরেক ভাই আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা শওকত হোসেন সরকার দারুলউলুম দত্তপাড়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, কনিষ্ঠ ভাই আলহাজ্ব আশরাফ হোসেন সরকার সাবেক শহর যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমানে নরসিংদী মানুষের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। আঃ মতিন সরকার মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন পুত্র রেখে যান। মরহুমের নামাজে জানাযা পড়ান মরহুমের ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা আলহাজ্ব  শওকত হোসেন সরকার। এসময় মরহুমের জানাযায় প্রিন্ট  ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও হাজার হাজার মুসুল্লি অংশগ্রহণ করেন। ব্যবসায়ীরা জানাযায় অংশ নেওয়ার জন্য বেলা ১১ টা থেকে সকল দোকানপাট বন্ধ রাখেন। মরহুমের জানাযা শেষে স্হায়ী দত্তপাড়া কবরস্হানে বাবার পাশে চির শায়িত করা হয়।

About newsroom

Check Also

নরসিংদীতে বন্ধুদের সহায়তায় তরুণীকে ধর্ষণ 

নিজস্ব প্রতিনিধি : নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায়  বন্ধুদের সহায়তায় তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, …