মঙ্গলবার , ২৪ নভেম্বর ২০২০

রাজশাহীতে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার- রাজশাহী নগরীর খড়খড়ি এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও আরএমপির চন্দ্রিমা থানার পুলিশ জানিয়েছেন, চন্দ্রিমা থানা এলাকার খড়খড়ি কেচুয়াতলা মহল্লায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শিশু ধর্ষনের এ ঘটনা ঘটে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় আলতাফ হোসেনের ছেলে আল আমিনকে (১৬ ) আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ধর্ষক আল আমিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুম মুনীর জানান, সকালে প্রায় ৫ বছরের শিশুটিকে বাসায় রেখে বাবা ভ্যান চালাতে চলে যান। অন্যদিকে শিশুটির মাও বাইরে যান কাজে। এই সুযোগে বাসায় ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে স্যানিটারি মিস্ত্রি আলতাফ হোসেনের নবম শ্রেণী পড়ুয়া আল আমিন। ঘটনার পরপরই আল আমিন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসী ও পুলিশ আরও জানায়, দুপুরে শিশুটির বাবা মা ফিরে এসে দেখেন শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রক্তক্ষরণ দেখে শিশুটির মা তার মেয়ের সঙ্গে খারাপ কিছু হয়েছে সন্দেহ করেন।  দ্রুত নিয়ে যান গ্রামের এক ডাক্তানখানায়। ডাক্তার দেখেই বলে দেন শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।  দ্রুত মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।

শিশুটির মা জানান, প্রতিবেশী আলতাফের ছেলে আল আমিন মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে।  দুপুরের পর শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসটপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, শিশুটির বেশ রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে রক্ত দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালে আনতে কিছুটা দেরি হওয়ায় রক্ত দেয়ার দরকার হয়।  তবে দ্রুত সময়ে সব ধরণের চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় তার শারিরীক পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল। আশঙ্কার কারণ নেই।  শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারকে আইনী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

চন্দ্রিমা ওসি সিরাজুম মুনীর আরও জানান, পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে না জানিয়ে গ্রামের লোকেদের নিয়ে ধর্ষক আল আমিনকে ধরতে খোঁজাখুঁজি করেন। এতে কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে। তারা বিকেলে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান এবং আইনী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আল আমিনকে গ্রেপ্তারে নগরীর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছেন পুলিশ।  দ্রুতই ধর্ষক আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।

এদিকে শিশুটির মা   জানান, প্রতিবেশীদের আশায় বাড়িতে রেখেই তারা কাজে বের হন প্রতিদিন। আলতাফের ছেলে আল আমিন তার ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করবে এটা মনে একটুও জায়গা দেননি। দুপুরে বাসায় ফিরে মেয়েকে অসুস্থ দেখে ও রক্তক্ষরণ হতে দেখে তিনি প্রথমেই আন্দাজ করেছিলেন তার মেয়ের সঙ্গে খারাপ কিছু হয়েছে। শিশুটির বাবা ভ্যানচালক। তিনি বাদী হয়ে বুধবার সন্ধ্যার আগে চন্দ্রিমা থানায় অভিযোগ দেন। পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশ- (সংশোধিত) ২০২০ আইনে মামলা রেকর্ড করেছেন।

About newsroom

Check Also

আশাশুনিতে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি আশাশুনিতে জনস্বার্থে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায় …