বুধবার , ২৫ নভেম্বর ২০২০

বাবু খুনের আসামী রাকিবকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এসআই বিকাশ’

নাজিম চৌধুরী,ফেনী জেলা প্রতিনিধি: ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার সফিকুর রহমান সড়কের তাসফিয়া ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ইয়াকুব নবী বাবু হত্যাকান্ডের ঘটনা জেনেই মামলার আসামী ইউনুছ নবী রাকিবকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন এসআই বিকাশ। বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ভবন কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীনের আদালতে জবানবন্ধী চলাকালে বাইরে গণমাধ্যমকে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

রেজিয়া বেগম বলেন, ‘গত ১০ অক্টোবর রাতে রাকিবকে নিয়ে থানায় যাই। সেখানে এসআই বিকাশ স্যারের সাথে দেখা করি। সেখানে এসআই বিকাশ আমাকে ধমক দেন। তিনি তখন বলেন বাবু পলাতক। শাহরিয়ারকে খুন করে বাবু চলে গেছে। শাহরিয়ারের নাম্বার চাইলেও তিনি দেননি। শাহরিয়ার মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তখন এসআই বিকাশ রাকিবকে উদ্দেশ্য বলছেন- ‘রাকিব তোমার বিপদ’। দুইবার বলেছে- ভয় পেয়োনা।’

রেজিয়া বেগম আরো বলেন, ‘স্বামী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে পাঠানবাড়ী রোডের তাসফিয়া ভবনে গিয়ে জানতে পারি- বাড়িওয়ালা একজনকে সদর হাসপাতালে নিয়েছে, পরে চট্টগ্রাম নিয়েছে। নিচে নেমে আবার বাসায় গিয়ে চাবি খুঁজি। সেখানে কোন কুলকিনারা না পেয়ে থানায় আবার ছুটে যাই। বিকাশ স্যার, আবারো বলে বাবু পলাতক। রাকিব-বিকাশ এক সুরে বলছে, বাবু আত্মগোপন করেছে। লোকেশন দিয়ে দেখেছি। তখন এসআই বিকাশ স্যারের পায়ে ধরে হাতজোড় করে বলি, সেপটিক ট্যাংকে আছে। পুনরায় থানায় গেলে আমাকে বন্দি করতে বলে। দুই পুলিশ আমাকে পাহারা দেয়।’

বাবু নিখোঁজের বর্ণনা দিয়ে রেজিয়া বেগম বলেন, ‘৮ অক্টোবর রাকিব ও শাহরিয়ার মোটর সাইকেল নিয়ে এসেছে। তাদের সাথে ঘুরতে যাবো। রাত ১১টায় শেষ কথা হয়। শুক্রবার দুপুরে বারবার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফোন দিলেও কল যায়নি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফোন দিলে অপর প্রান্ত থেকে অন্য লোক রিসিভ করে কথা বলেনি। পরে ছোট ছেলের মাধ্যমে পাঠানবাড়ী এলাকায় একটি লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে রাকিবের বাড়িতে চলে যাই। রাকিব আমাকে এলেমোলো পথ দিয়ে রিক্সায় করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে শাহরিয়ারের হোন্ডা দেখতে পাই।’

প্রসঙ্গত; গত ১০ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পুলিশ বাবুর লাশ উদ্ধার করে। একই ট্যাংক থেকে আগেরদিন সকালে আহত অবস্থায় তার অপর বন্ধু শাহরিয়ারকেও উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার ভোরে পাঠানবাড়ী সড়কের তাসফিয়া ভবনের নিচতলার গ্যারেজের কক্ষে কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীন পানি দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করছিলেন। তা দেখতে পান একজন ভাড়াটিয়া। ওই ভাড়াটিয়া তার ছেলেকে ডেকে বিষয়টি দেখান। তারা রক্ত কোথা থেকে এল জানতে চাইলে মোজাম্মেল সদুত্তর দিতে পারছিলেন না। এসময় তারা পাশের সেপটিক ট্যাংক থেকে মানুষের গোঙানির শব্দ পেয়ে এগিয়ে আসেন। তারা ট্যাংকের ঢাকনা তুলে মুমূর্ষু অবস্থায় শাহরিয়ারকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেন। পুলিশ শাহরিয়ারকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখান থেকে শাহরিয়ারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাবু হত্যার ঘটনায় মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

About newsroom

Check Also

আশাশুনিতে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি আশাশুনিতে জনস্বার্থে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায় …