বৃহস্পতিবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২১

২২ কেজি টিউমারের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেল নুর পাগলা

জাহাঙ্গীর শামস ,দীর্ঘ ৩০ বছর পর ২২ কেজি টিউমারের নিদারুণ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে নুর পাগলা। ২২ কেজি টিউমার নিয়ে টেকনাফের পথেঘাটে ঘুরতো নুর পাগলা। পুরো নাম নুর হোসাইন। এই বিশালাকার টিউমার নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর যন্ত্রণা বইতে হয়েছে এই পাগলকে। তবে এক মানবতাবাদী মানুষের সহযোগিতায় ৩০ বছরের এই নিদারুণ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে যাচ্ছে নুর পাগলা! কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন উদ্যোক্তা বদরুল হাসান মিল্কীর নিজস্ব অর্থায়নে নুর পাগলার টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। ১০ মার্চ সোমবার চকরিয়া ডুলাহাজারা মালুমঘাট নিউ মেমোরিয়াল হাসপাতালে আলোচিত ডা. কেলি নুর পাগলার এই ২২ কেজি ওজনের টিউমার অপারেশনের কাজ সম্পন্ন করেন।

নুর পাগলাকে নতুন জীবনে ফিরিয়ে দেয়ায় সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন বদরুল হাসান মিল্কী। তাকে নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভূঁয়সী প্রশংসা করা হচ্ছে। তাঁকে মানবতাবাদী আখ্যা দিয়ে ‘স্যালুট’ জানাচ্ছে অনেকে।
এ ব্যাপারে জনাব মিল্কী বলেন, সম্প্রতি তিনি টেকনাফে গেলে নুর পাগলা তার চোখে পড়ে। দেখা গেছে তার চোখ থেকে গায়ে সামনের বিশাল অংশ জুড়ে ঝুলছে বিশাল মাংসপিন্ড। এটা দেকে থ’ হয়ে যান বদরুল হাসান মিল্কী। তিনি ওই পাগলের কাছে যান। তাকে ডেকে কাছে নেন। উপস্থিত লোকজন থেকে জানতে পারলেন তার নাম নুর হোসাইন। দীর্ঘদিন ধরে পাগল অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে। সাথে টিউমারও। লোকজন জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর আগে নূর পাগলার এই টিউমার হয়। এটি ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে বিশালাকার ধারণ করে। এটি নিয়ে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা কাতরায় এই নূর পাগলা। এই কথা শুনে নুর পাগলার প্রতি করুণ মায়া জমে উঠে বদরুল হাসান মিল্কীর। তিনি নুর পাগলার চিকিৎসা করতে মনস্থির করেন। সে মতে নূর পাগলাকে কক্সবাজার নিয়ে আসেন।
তিনি আরো জানান, নুর পাগলাকে কক্সবাজার এনে ভালো করে গোসল করানো হয়। তারপর ডুলাহাজারা মালুমঘাট নিউ হাসপাতালের পূর্বপরিচিত ডা. কেলির কাছে নিয়ে যান। তিনি পরীক্ষা করে দেখলেন ওই টিউমারের ওজন ২২ কেজির বেশি হয়েছে। তবে অপারেশনের মাধ্যমে এই বিশালাকার টিউমার অপসারণ করা যাবে আশ্বস্থ করেন ডা. কেলি। তাঁর জন্য খরচ হবে দুই লক্ষ টাকা! নিজ থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে নুর পাগলার এই টিউমার অপসারণের উদ্যোগ নেন মানবতাবাদি মানুষ মিল্কী। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সোমবার সকালে নুর পাগলার ২২ কেজি ওজনের এই টিউমার অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।
এরপর অপারেশনের কিছু ছবি আর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছেন। সবাই টেকনাফের মানবতাবাদি বদরুল হাসান মিল্কীকে ধন্যবাদ জানান।

About newsroom

Check Also

আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের আওতায় ৮৭ হাজার গ্রাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ-১ ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প’ একটি অন্যতম দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্প। …