চট্টগ্রামে পেয়াঁজের পর্যাপ্ত মজুদ সত্ত্বেও দাম কমছেনা 

0
17
 চট্টগ্রাম :সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রামের চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে কিছুটা কমলেও পুরোপুরি কমছেনা পেঁয়াজের দাম। গত তিন সপ্তাহ ধরে দেশি পেঁয়াজের সররবাহ বাড়ার পরেও ঊর্ধ্বমুখী ছিল পেঁয়াজের বাজার। তবে বর্তমানে বাজারে পাকিস্তানি ও ইরানি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। যার ফলে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত। তবে পাইকারিতে দাম কমলেও প্রভাব নেই খুচরা বাজারে। খুচরায় এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০থেকে ১০০ টাকায়।
গতকাল চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭ টাকা কমে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৮ টাকায়। এছাড়া পাকিস্তানি পেঁয়াজে ৫ টাকা কমে ৬০ টাকা, চীনা পেঁয়াজ ৭ টাকা কমে ৫৫ টাকা এবং ইরানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশে তাহেরপুরী, বারি-১ (তাহেরপুরী), বারি-২
(রবি মৌসুম), বারি-৩ (খরিপ মৌসুম), স্থানীয় জাত ও ফরিদপুরী পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। ফলে বছরজুড়েই কোনো না কোনো জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। এর মধ্যে ১৮ লাখ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয়। আর আমদানি করা হয় বাকি চার লাখ টন। মূলত এই আমদানিকৃত চার লাখ টন পেঁয়াজ বাজারের ওপর খুব বড় প্রভাব ফেলে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস  বলেন, গত দুইদিনে বাজারে পাকিস্তানি ও ইরানি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাবে বাজার বর্তমানে কমতির দিকে আছে। গত সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে বেশ কিছু চালান পেঁয়াজ আসে। তবে সব পেঁয়াজ আবার বিক্রয়যোগ্য নয়। মোটামুটি ভালো পেঁয়াজগুলো আলাদা করে বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা পেঁয়াজও বাজারে এসেছে। সব মিলিয়ে বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। সরবরাহ আরো বাড়লে দামও কমে যাবে। কাঁচাপণ্য চাইলেই মজুদ করে রাখা যায় না।
এদিকে পাইকারিতে কমলেও খুচরা বাজারে এর কোনো ধরনের প্রভাব নেই। কাজীর দেউরি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব ধরনের পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে৯০থেকে ১০০টাকায়। খুচরা  বিক্রেতা মো. আবদুল্লাহ  জানান, আমাদের পেঁয়াজের আগের দরে কেনা। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ পেয়াঁজ ব‍্যবসায়ীরা অবৈধ বাড়তি আয়ের জন‍্য সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অন‍্য যায়গায় গুদামজাত করে রাখে। যাতে দাম বাড়ার সাথে সাথে তারাও এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। মূলত পেয়াঁজের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে খাতুনগঞ্জ এলাকার সব গোডাউন খালি দেখা যায়। এ সময়  পেয়াঁজ ব‍্যবসায়ীরা পেয়াঁজ সরবরাহ নাই বলে দাম বাড়ানোর সুযোগটা নেই।