চট্টগ্রামে আলুর দাম এখনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি প্রশাসন 

0
23
মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সব বাজার গুলোতে ব‍্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছে মত আলুর দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে অনেকের কাছ থেকে।প্রাইকারী বাজার এবং খুচরা বাজারের মধ‍্যে অনেক তফাৎ রয়েছে বলেও ভোক্তাদের অভিযোগ।
চট্টগ্রামের বড় বড় বাজার পরিদর্শন করে দেখা যায় প্রশাসনের ভয়ে দৈনিক বাজারের মূল্য তালিকায় আলুর দাম ৩৬-৪০ টাকা লেখা থাকলেও ভেতরে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। প্রতি কেজি আলুর মৃল‍্য ধরা হচ্ছে ৫০/৬০ টাকা। এ নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে বাক বিতন্ডা হতে ও দেখা।
কর্ণফুলী কাচা বাজারে বাজার করতে আসা গৃহীনী আয়েশা আক্তার অভিযোগ করে বলেন সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি কেজি আলুর দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তা মানছেনা কোন ব‍্যবসায়ী। যে যেমন পারছে তেমন দাম নিচ্ছে বলে ও তিনি অভিযোগ করেন।
ব‍্যবসায়ী মাহমুদ বলেন আমাদের কেনা দাম বেশি তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্য বিষয়ে তিনি বলেন সরকার বললে তো হয় না। আমরা তো আর নিজের ক্ষতি করে ব‍্যবসা করতে পারব না।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে নগরীর সব বাজার গুলোতে নির্বাহী ম‍্যাজিষ্ট্রেঠ এর সমন্বয়ে প্রশাসনের টিম কাজ শুর করে দিয়েছে। যেখানে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাবে সাথে সাথে প্রশাসনিক ব‍্যবস্হা নিতে আদেশ জারি করা হয়েছে।

সম্প্রতি আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

এ নিয়ে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সরকারি সংস্থাটি চিঠি দিয়েছে বলে বুধবার জানা গেছে।

এতে বলা হয়, দেশে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা বিক্রি করতে হবে। পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা আর হিমাগার পর্যায়ে কেজি ২৩ টাকা বিক্রি করতে হবে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যে হিমাগার, পাইকারি বিক্রেতা এবং ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাসহ তিন পক্ষই যাতে সবজিটি বিক্রয় করেন সেজন্য কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে ডিসিদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে।

সম্প্রতি খুচরা বাজারে কেজি প্রতি আলুর দাম ৫০-৫৫ টাকায় গিয়ে ঠেকে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি বিক্রেতাদের আর পাইকারি বিক্রেতারা হিমাগার মালিকদের দুষছেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ মৌসুমে একজন চাষির প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৮ টাকা ৩২ পয়সা। উৎপাদন থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচ ধরে এক কেজি আলু হিমাগার পর্যন্ত সংরক্ষণে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ২১ টাকা।