করোনা ভাইরাস ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

0
135
লেখকঃ ফারজানা ফেরদৌস
শিক্ষার্থী,সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
ধরা যাক, দেশের সাধারন মানুষের মাঝে ৯৫% মানুষ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানে, ৪০% মানুষ সঠিক তথ্য জানে,২০% মানুষ এর ভয়াবহতা নিয়ে সচেতন এবং মাত্র ১০% সঠিক তথ্য জানে, সচেতন এবং কাজে প্রকাশ করে।
এই ১০% মানুষ কি বাকি ৮৫% এর জীবনে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে? সরাসরি যোগাযোগ যেহেতু  করোনা ছড়ানোর প্রধান এবং একমাত্র পথ তাই কমিউনিটি প্রাকটিস এ পরিবর্তন আনা বেশ দরকার যেটা বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট এ ভীষণ
কঠিন।
আমরা যারা করোনা ভাইরাস এর ভয়াবহতা আঁচ করতে পারছি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়াতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়েছি তারা কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি।
 ক” – করোনা ভাইরাস এর বাহক হিসেবে ধরে নেওয়া প্রবাসী যারা এদেশে এসেছেন তারা বেশিরভাগই মফস্বল বা গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছেন।তাই তাদের জন্য আমাদের যা করনীয়ঃ
১। নিজ নিজ এলাকায় মাইকিং করা যেতে পারে।হোম কোয়ারেন্টাইন কি, কেন তা মেইনটেইন করা জরুরী,  কিভাবে কিভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন মানতে হবে, না মানলে তার কাছের লোকেদের কি মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে তা বুঝিয়ে বলা যেতে পারে।মাইকিং এর জন্য আবার অনেক গ্যাদারিং করা যাবে না। সর্বোচ্চ ২জন করে অথবা মসজিদ এর মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে।
২। মাইকিং এর মাধ্যমে, সুস্থ মানুষদের অবহিত করতে হবে, বিদেশফেরত কেউ জনসমাগম এ এলে তারা যেন তাকে এড়িয়ে চলে এবং বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।  কারন এই সময়ে সামাজিকতার সংস্পর্শ সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর এটা বুঝিয়ে দিতে হবে  সবাইকে। সেই সাথে তাদেরও যতটা সম্ভব সবার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে এটা তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে।
৩। এরপরও এসব বিষয়ে কাজ না হলে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। নিজেদের বাঁচার স্বার্থে নিজেদেরই পদক্ষেপ নিতে হবে।
খ-” এবার আসি, দেশে থাকা মানুষদের নিয়ে যাদের সংক্রমিত হবার সুযোগ আছে।  এদের সচেতনতার ক্ষেত্রে অনেকেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন যা প্রসংশনীয়। যেমন: মাস্ক এবং সাবান বিতরণ। তবে এর থেকেও বেশি জরুরী রেগুলার প্রাকটিস এ পরিবর্তন আনা যেটা রাস্তাঘাটে থুতু ফেলা জাতির জন্য বেশ কঠিন।দেশের মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমাদের যা করনীয়ঃ
১. অনেকেই সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরন করছেন যা আসলে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ লিফলেট এর মাধ্যমে হাতে হাতে জীবানু ট্রান্সফার হতে পারে।
২.লিফলেট এর পরিবর্তে নিজ এলাকায় পোস্টার লাগাতে পারেন(পোস্টার লাগানো শেষ করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে অবশ্যই)।
৩. একই চায়ের কাপ শেয়ার করলে করোনা ছড়াতে পারে।  তাই চায়ের দোকানের সামনে এমন পোষ্টার লাগান, যেখানে চায়ের কাপ শেয়ার করতে নিষেধ থাকবে।  প্রয়োজনে চায়ের দোকানীদের ওয়ানটাইম কাপ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে পারেন বা তাদের বিনামূল্যে বিতরণ করতে পারেন যদি সম্ভব হয়।
৪. টাকায় থাকতে পারে করোনার জীবানু, তাই দোকান বা বাজারের পাশে এমন পোস্টার লাগান যেন তারা প্রতিবার টাকা ধরার পর হাত ধুয়ে ফেলেন।  এবং নিজের মুখ, চোখ, নাক স্পর্শ না করেন।
৫. ৩০ সেকেন্ড  ধরে হাত ধোয়া, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট  এ হাত না দেয়া, সিড়ির হাতল না ধরা, লিফটের বোতাম কনুই দিয়ে ব্যবহার করা, হাচি-কাশিতে টিস্যু ব্যবহার করা, এই সকল তথ্য সংবলিত ছোট ছোট পোস্টার উপযুক্ত জায়গায় লাগিয়ে দিতে পারেন।
উদাহরন স্বরুপ, কেউ যদি লিফটের বোতাম ধরতেও যায়, পোস্টার এর নির্দেশনা দেখে নিজেকে বিরত রাখবেন।  পোস্টার লাগানোর আগে এবং পড়ে  ভালোকরে নিজের হাত ধুয়ে নিবেন।
৬. নিজ এলাকায় করোনায় প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কে  প্রতিদিন ২ বার মাইকিং করতে পারেন। অর্থসংকট থাকলে মসজিদের মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবচেয়ে ভালো হয় মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিন যারা আছেন তাদের ব্যাপারগুলো বুঝিয়ে দিলে, যাতে তারা সাধারণ মানুষদের বলতে পারেন, সেটা হতে পারে প্রতিদিন একবার মাইকে কিংবা জুম্মার খুতবায়।
তাতে করে সাধারন মানুষ দোয়া করার পাশাপাশি প্রাকটিস এ উৎসাহী হবে।
একইভাবে অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের ও জানাতে হবে। আমরা ধর্মগুরুদের কথায় যে কতটা প্রভাবিত হই তা থানকুনি পাতার ঘটনায়ই বোঝা গেছে।
৭. কিছুদিনের  সামাজিকতা পরিহার করতে হবে। বাড়িতে অসুস্থ মুরুব্বি থাকলে প্রয়োজনে বাড়িতে কেউ আসতে চাইলে তাকে বুঝিয়ে বলবেন। এই সংকট এ যারা ট্যুর মুড এ আছে, তাদের সামাজিক ভাবে বয়কট করা ছাড়া উপায় নেই।
আমরা অনেকেই অনেক কিছু জানি, কিন্তু তা শুধু ফেসবুকে সীমাবদ্ধ না রেখে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব।  শুধুমাত্র সরকার,ডাক্তার এর উপর নির্ভর করে হা হুতাশ করলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে, কমবে না।সবাই ভালো থাকুন,নিরাপদে থাকুন।